মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

শিমুলয়ার মিশন ও বেত্রাবতী নদ

শিমুলিয়ার মিশন

১৮৫৫ খ্রীর্স্টাব্দের এপ্রিল মাসে ইটালীর অন্তর্গত মিলান শহরের সেন্ট কালোচারোর “সেমিনারীকর করেণ মিশনস্থ” থেকে তিন জন পুরোহিত ও একজন ধর্ম শিক্ষক বিশ্বাস বিস্তার সংস্থা কর্তৃক মধ্য বঙ্গে প্রেরিত হন। এদের মধ্যে ফাঃ আন্তনীয় মারিয়েত্তি, পিমে, মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৮৫৬ খ্রীস্টাব্দে যশোরে আসেন এবং ত্রিশ বছর খৃস্ট বাণী প্রচারের কাজ করেন। যশোর ক্যাথলিক খ্রীস্টানদের সমাধি ক্ষেত্রে তাঁর সমাধিস্তম্ভ আজ ও বিদ্যামান। যশোর ফাদার মারিয়েত্তির অধীনে ক্যাথলিক খ্রীস্টানগণ ছিল ইন্ডোপর্তুগীজগণ মাত্র। তারা অধিকাংশ যশোর শহরে বসবাস করত। স্থানীয় কোন ক্যাথলিক খ্রীস্টান ছিল না। এই তরুণ ফাদার একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করতেন এবং অশিক্ষিত, অভাবগ্রস্থ ও নিপিড়িত মানুষের সেবা-শুশ্র“ষা করতেন।

 

ফাদার মারিয়েত্তিকে নিয়ে তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে আশে পাশে ও দূরবর্তি গ্রাম এলাকায় খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে লাগল। ১৮৫৬ ও ১৮৮৯ খ্রীর্স্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে শিমুলিয়া ও বেনেয়ালী এলাকার নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা জগোনন্দ কাঠির খ্রীস্টানদের কথা জানতে পেরে ফাদার মারিয়েত্তিকে এ অঞ্চলে আসবার জন্য অনুরোধ ও আমন্ত্রণ জানালো। এখানে উল্লেখ্য যে, ফাদার মারিয়েত্তিকে আমন্ত্রণ জানানোর অনেক পূর্বেই অর্থ্যাৎ ৬ষ্ট দশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এই অঞ্চলে এ্যাংলিকান ও ব্যাপটিষ্ট মিশনারীদের দ্বারা খ্রীর্স্টবাণী প্রচার কাজ চলে আসছিল। ফাদার মারিয়েত্তি তাদের অনুরোধ রক্ষা করেন এবং ১৮৫৯ খ্রীর্স্টাব্দের মাঝের দিকে শিমুলিয়া, বেনেয়ালী, আজমপুর, পাল্লা, গঙ্গাধারপুর, বোধখানা, বসন্তপুর প্রভৃতি স্থানে নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মাঝে ও অক্যাথলিক খ্রীর্স্টানদের মাঝে নবোদ্যমে খ্রীর্স্টবাণী প্রচার কাজ শুরু করেন। তিনি খ্রীস্টান ধর্ম শিক্ষা দেওয়ার পর তাদের খ্রীর্স্টধর্মে দীক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করেন। ১৮৫৯ খ্রীস্টাব্দের ৬ই নবেম্বর তিনি সর্বপ্রথম জগোনন্দ কাঠি গ্রামে ১৩ জনকে খ্রীর্স্ট ধর্মে দীক্ষা প্রদান করেন। পরপরই বেনেয়ালীতে ২৪ ডিসেম্বর বেশ কয়েকজনকে খ্রীস্ট ধর্মে দীক্ষা প্রদান করেন।

১৮৬০ খ্রীস্টাব্দের ২রা এপ্রিল শিমুলিয়া গ্রামে তিনি কয়েকজনকে খ্রীস্টধর্মে দীক্ষা প্রদান করেন। তাদের মধ্যে হতে ২ জন ২২ বছর বয়সী যুবক ফাদার মারিয়েত্তির সাথে ধর্ম প্রচারের কাজ করেন। এরা হলেন জোয়ান্নী ও বাঞ্ছারাম। ১৮৬০ খ্রীস্টাব্দে শিমুলিয়াতে ও বেনেয়ালীতে গীর্জা বাড়ি স্থাপিত হয়।