মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ঝিকরগাছার লেখকদের বইয়ের প্রচ্ছদ

ঝিকরগাছার লেখকদের সংক্ষিপ্ত জীবনী দেওয়া হলো:

 

ঝিকরগাছার সাহিত্যিকদের পরিচিতি

সৈয়দ লাল মোহাম্মদঃসৈয়দ লাল মোহাম্মদ ১ মার্চ ১৯১৫ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার মিছরী দেয়াড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশবে পিতা মাতাকে হারিয়ে লাল মোহাম্মদ আত্মীয় স্বজনের কাছে লালিত পালিত হন। প্রাথমিক শিক্ষা ঝিকরগাছাতে শুরু করেন। মাধ্যমিক পড়াশুনা যশোর জেলা স্কুলে করেন। ১৯৩২ সালে যশোর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (বর্তমানে এসএসসি) পাস করেন। পরে বাগেরহাট প্রফুল­চন্দ্র কলেজে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য ভর্তি হন কিন্তু দারিদ্রের কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

লাল মোহাম্মদ এর স্ত্রীর নাম সৈয়দা ফাতেমা খাতুন। তিনিও গল্প কবিতা রচনা করতেন। তাঁর কিছু লেখা তৎকালীন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সৈয়দ লাল মোহাম্মদ ছয় পুত্র, ছয় কন্যা মোট বার সন্তানের জনক ছিলেন। বড় ছেলে সৈয়দ আশেক মাহমুদ গীতিকার, নাট্যকার ও সমাজ সংগঠক। অন্য ছেলেদের মধ্যে মাশুক মোহাম্মদ সাথী ও মাসুম মোহাম্মদ জামী কৃতি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। মেয়েদের মধ্যে মাসুমা খ্যাতিমান স্থির চিত্র শিল্পী।

 

দাউদ হোসেন। জন্ম কৃষক পরিবারে, ১৯৪৪ সালের ২রা মার্চে, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার  বায়সা গ্রামে। পিতা নিছার আলী, মাতা আছিয়া খাতুন। উভয়েই প্রয়াত যথাক্রমে ১৯৭০ ও ১৯৮৩ তে । জীবিত এক বোন এক ভাই। গ্রামীণ পাঠশালায় হাতেখড়ি হলেও বাল্য ও কৈশোর কেটেছে তাঁর শার্শা উপজেলার নাভারণ রেলবাজারে । এখানকার বুরুজবাগান প্রাইমারী ও হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯৬০-এ ম্যাট্রিকুলেশন, যশোরের মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে ১৯৬২ তে আইএসসি পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা (অনার্স) বিভাগে। কোর্সের মাঝামাঝি রাজনৈতিক প্রয়োজনে চলে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অর্জন করেন পদার্থবিদ্যায় অনার্স ডিগ্রী ১৯৬৫ তে। কলেজ জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৬৫ তে পাকিসত্মানের নাগপাশ থেকে স্বাধীনতালাভের লক্ষ্যে তিনি সমমনাদের নিয়ে গঠন করেন গুপ্ত সংগঠন ‘‘পূর্ববাংলা জাতীয় মুক্তি সংস্থা’’ । অল্পকাল পরেই গ্রেপ্তার হন এ সংস্থার বেশকিছু নেতা-কর্মী। গ্রেপ্তার এড়িয়ে দাউদ হোসেন চলে যান গুপ্ত রাজনৈতিক জীবনে, যা ব্যাহত করে তাঁর ছাত্র জীবনকে। পরে ১৯৬৭ তে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেন পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী।

 

হোসেনউদ্দীন হোসেন সাহিত্য সৃষ্টির জগতে, এদেশে যে ক’জন নীরব কর্মী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন হোসেনউদ্দীন হোসেন তাদের অন্যতম। প্রত্যন্ত মফস্বল শহরে বসে আধুনিক চিন্তামনস্ক এই লেখক সকলের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে নীরবে-নিভৃতে সাহিত্য সৃষ্টি করে বিশ্ব দরবারে ‘‘আউট ষ্ট্যান্ডিং’’ লেখক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন । প্রচার বিমুখ বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক,সাহিত্য গবেষক ও মননশীল লেখক  হোসেনউদ্দীন হোসেন সাহিত্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সাহিত্যঙ্গনে একজন সেরা লেখক হিসেবে মনোনিত হয়েছেন ।

আইবিসি (ইন্টারন্যাশনাল বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার ) কেমব্রিজ, ইংল্যান্ড তাঁকে এ সম্মানে ভুষিত করেছে । সংস্থাটি বিশ্বের কয়েক হাজার লেখকের জীবনী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে গবেষণা ও অনুসন্ধান চালিয়ে সেরা ১০০ লেখক ২০০৫ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন হোসেনউদ্দীন হোসেন। আইবিসি আরো ঘোষণা করেছে যে, যাদেরকে সেরা লেখক হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে তারা আঞ্চলিক,  জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্যঙ্গনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন কিন্তু তাদের এ যাবত যথাযোগ্য মূল্যায়ণ ও স্বীকৃতি প্রদান করা হয়নি। সংস্থাটি যথাযোগ্য মূল্যায়ন করে তাঁকে ‘‘সেরা ১০০ জন লেখক, ২০০৫ শিরোনামে স্বীকৃতি দান ও ওই সংস্থার সদস্য পদ প্রদান করেছে।

হোসেনউদ্দীন হোসেনর  জন্ম যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে। ব্যক্তি জীবনে দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি। নাতি-নাতনী সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রয়েছে তার। স্ত্রী হাসিনা আকতার তার এই সাহিত্য সৃষ্টির পেছনে নিরলসভাবে উৎসাহ যুগিয়ে আসছেন। তিনি ১৯৪১ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারী কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঝিকরগাছা এম,এল, হাইস্কুলে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা লাভ করেন। ৬০-এর দশক থেকে তিনি সাহিত্য চর্চায় মনোযোগী হন। তার লেখা সমকাল, দৈনিক বাংলা, সংবাদ, ইত্তেফাক, জনকন্ঠ, পূর্বদেশ, ভোরের কাগজ, বিচিত্রা, ভারত বিচিত্রা, উত্তরাধিকার, শৈলীসহ দেশের প্রথম সারির পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে, যশোরাদ্য দেশ, যশোর জেলার কিংবদন্তী (দুই খন্ড), অমৃত বৈদেশিক, ভলতেয়ার-ফ্লবেয়ার-তলস্তয়ঃ ত্রয়ী উপন্যাস ও যুগমানস , নষ্ট মানুষ, প্লাবন এবং একজন, সাধুহাটির লোকজন ও বাঙলার বিদ্রোহ (দুই খন্ড), ঐতিহ্য আধুনিকতা ও আহসান হাবীব, সমাজ সাহিত্য দর্শন। প্লাবন এবং একজন উপন্যাসটি ‘‘ফ্লাড এ্যান্ড এ নুহ’’ নামে ইংরেজি ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং লন্ডনের মিনার্ভা প্রকাশনীর দিল্লী ও মুম্বাই শাখা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। হোসেনউদ্দীন হোসেনের লেখা এই বইটি সারা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিগত বিংশ শতাব্দীতে (১৯০০-২০০০) বিশ্বের ২ হাজার বিশিষ্ট প্রতিভাবান ব্যক্তির নামের তালিকা ক্যামব্রিজ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছে, ওই গ্রন্থে তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি ‘‘মরাল’’ সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

 

মোহাম্মদ শামছুজ্জামানযশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ঝিকরগাছা গ্রামে (কাঁটাখাল) এক সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্ম তারিখ আনুমানিক ২৬শে ভাদ্র, বাংলা ১৩৬৮ সাল। পিতা মরহুম আব্দুর রউফ মন্ডল ও মাতা সুপিনা খাতুন। জামানের পিতা ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পূর্বে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার অন্তর্গত মালিপোতা গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। পিতামহ মরহুম এলাহি বক্স মন্ডল।   প্রপিতামহ পিয়া আলী মন্ডল, মাতুলালয় বনগাঁ থানার পাইকপাড়া গ্রামে। মাতামহের নাম হাজী সাহাজ উদ্দিন বিশ্বাস । পিতা-মাতার দশ সন্তানের মধ্যে জামান সাহেব চতুর্থ। তবে প্রথম পুত্র সন্তান।

মোশাররফ হোসেন খান। পিতাঃ ডাঃ এম. এ . ওয়াজেদ খান। মাতাঃ বেগম কুলসুম ওয়াজেদ। জন্মঃ ২৪শে আগষ্ট, ১৯৫৭ ইং। জন্মস্থানঃ গ্রাম- বাঁকড়া, থানা - ঝিকরগাছা, জেলা- যশোর। পেশাঃ চাকুরীঃ সম্পাদক, মাসিক নতুন কলাম, ২৩০, নিউ এলিফ্যান্ট রোড [৪র্থ তলা], ঢাকা।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ কবিতাঃ ১। হৃদয় দিয়ে আসুন [১৯৮৬], ২। নেচে ওঠা সমুদ্র [১৯৮৭], ৩। আরাধ্য অরণ্যে [১৯৯০], ৪। বিরল বাতাসের টানে [১৯৯১], ৫। পাথরে পারদ জ্বলে [১৯৯৫], ৬। ক্রীতদাসের চোখ [১৯৯৭], ৭। নতুনের কবিতা [২০০০], ৮। বৃষ্টি ছুঁয়েছে মনের মৃত্তিকা [২০০২], ৯। দাহন বেলাল [২০০২], ১০। কবিতা সমগ্র [২০০৩], ১১। আমার ছড়া [২০০৫], ১২। সবুজ পৃথিবীর কম্পন [২০০৬], ১৩। পিতার পাঠশালা [২০০৭],

ছোট গল্পঃ১। প্র্চ্ছন্ন মানবী [১৯৯০], ২। সময় ও সাম্পান [১৯৯৪], ৩। ডুবসাঁতার [২০০১], ৪। জীবন স্রোত [২০০৭]

প্রবন্ধঃ ১। বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য [২০০৪],  ২। বাংলাসাহিত্যে পালাবদলের হাওয়া, ৩। বাংলাসাহিত্যে মুসলিম প্রতিভা

কিশোর উপন্যাসঃ ১। বিপ্লবের ঘোড়া [১৯৯৪], ২। সাগর ভাঙ্গার দিন [২০০৩], ৩। ঝিমায় যখন ঝিকরগাছা [২০০৩], ৪। বাঁকড়া বিলের হাঁস, কপোতাক্ষর বাঁকে [২০০৭]

জীবনী গ্রন্থঃ১। হাজী শরীয়ত উল্লাহ [১৯৯৫], ২। সাইয়েদ নিসার আলী তিতুমীর [১৯৯৯], ৩। মাওলানা মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদী [২০০২], ৪। মুনশী মোহাম্মদ মেহেরউল্লাহ [২০০৪]

শিশুসাহিত্যঃ ১। সাহসী মানুষের গল্প [১৯৯৪], ২। ২য় খন্ড [১৯৯৯], ৩। রহস্যের চাদর [১৯৯৯], ৪। অবাক সেনাপতি [১৯৯৯], ৫। দূর সাগরের ডাক [২০০২], ৬। কিশোর গল্প [২০০৫], ৭। কিশোর কমান্ডার [২০০৫], ৮। কিশোর গল্প-২ [২০০৬], ৯। ছড়ির তরবারি ১০,। সাহসী মানুষের গল্প-৩।

সম্পাদনাঃ ১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মুসলিম অবদান [১৯৯৮], ২। কিশোর কন্ঠ উপন্যাস সমগ্র [২০০১], ৩। কিশোর কন্ঠ গল্প সমগ্র [২০০১], ৪। সাহিত্য সংস্কৃতি : সীরাত সংখ্যা [২০০৩], ৫। সাহিত্য সংস্কৃতি : সীরাত সংখ্যা [২০০৪], ৬। সাহিত্য সংস্কৃতি: সীরাত সংখ্যা [২০০৫], ৭। সাহিত্য সংস্কৃতি: সীরাত সংখ্যা [২০০৬]; সাহিত্য সংস্কৃতি : সীরাত সংখ্যা [২০০৭], ৮। শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা [২০০৬], ৯। মুখোমুখি [২০০৬], ১০। সেমিনার স্মারক গ্রন্থ [২০০৬]; ঐ সংখ্যা ২ [২০০৭]।

 

মোঃ রফিকুল ইসলামসাহিত্যনুরাগী। সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। পিতা মরহুম কেনায়েত আলী মাতা রোমেনা বেগম। জন্ম ১ জানুয়ারী ১৯৪৪ কৃষ্ণনগর ঝিকরগাছা, যশোর। ১৯৬৫ সালে বি.এ পাশ করার পর ঝিকরগাছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি ঝিকরগাছা শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজে টিউটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলা সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভের পর তিনি শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৪ই জুলাই জাতীয় সংসদের হুইপ নিযুক্ত হন। পরে তিনি বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রী সভায় যোগ দেন। পাঠক নন্দিত ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যা দলিল’’ তাঁর সম্পাদিত একটি গ্রন্থ।

 

 

মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ: প্রচার বিমুখ কবি ও সাহিত্য অনুরাগী ব্যক্তিত্ব। পিতা এস এম মোসলেম, মাতা আমেনা খাতুন। জন্ম ২১ মার্চ ১৯৪২। ফারুক মোহাম্মদ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। অর্জন করেছেন ঈর্ষণীয় ফলাফল কিন্তু পরবর্তীতে কর্মজীবনে সাহিত্য সাধনায় সময় দেননি। ছাত্র জীবন থেকে লেখালেখির হাতে খড়ি। ছাত্র জীবনে ‘রবি পদে’ কবিতাটি পাঠক সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মানুষের জীবন ধারা নিয়ে ‘সরল রেখা’ প্রবন্ধ সাহিত্যের পাতায় শীর্ষস্থান পায়। তিনি পঞ্চাশ এর দশক থেকে সত্য যুগ, সংকল্প, লোকসেবক, সংবাদ, আজাদ, ইত্তেফাক, প্রথম আলো ইত্যাদি পত্র পত্রিকায় শতাধিক কবিতা, প্রবন্ধ, ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে লেখাগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে। কর্ম জীবনে তিনি অধ্যাপনা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), কূটনীতিবিদ ও রাষ্ট্রদূত, সচিব ছিলেন। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত আছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই কন্যার জনক। বড় কন্যা হৃদি লন্ডনের সোয়াস থেকে কমপারে&&টভ রিলিজিয়ান - এ মাষ্টার্স করে এখন অক্সফোর্ডে প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট কন্যা দিসা সোনাতা ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, সোয়ানসি থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট এ মাষ্টার্স করে ঢাকাস্থ আই ও এম এ  ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। স্ত্রী মমতাজ ফারুক স্বামীর কর্মের সুবাদে ১৮টি দেশ ভ্রমন করে ব্যাপক অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। বিদেশে অনেক সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন। দেশে ফিরে জোন্টা - ২ এর একজন বোর্ড মেম্বর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ-চীন গণমৈত্রী সংস্থা, মহিলা অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির কেন্দ্রীয় ট্রেজারার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঝিকরগাছা-চৌগাছা তথা যশোরের অবহেলিত মানুষের কল্যাণে ‘মমতাজ ফারুক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

 

 

 

ডা. গোলাম সরওয়ার: ঝিকরগাছা থানার খাটবাড়িয়া গ্রামে ১৯৩২ সালে ১ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজ গ্রামের স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। কলারোয়া হাই স্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা মিডফোর্ড মেডিকেল স্কুল থেকে এল, এম, এফ এবং ১৯৬০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এম, বি, বি, এস পাস করেন এবং এক বছর চক্ষু বিভাগে সার্জন হিসাবে কাজ করেন। তিনি প্রথম কর্ম জীবন শুরু করেন ফেনী টি,বি হাসপাতালে। পিতার নির্দেশে চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজ এলাকা বাঁকড়ায় চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত হন। পরবর্তীকালে ঝিকরগাছা বোটঘাট রোডে ‘রুমেল ফার্মেসী’ নামে একটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় পত্র পত্রিকায় বহু গল্প, প্রবন্ধ, ফিচার লিখেছেন।

 

ভূপতি মোহন চন্দ্রঃ বাংলা ১৩২৫ সালের ১৫ই জ্যৈষ্ঠ ঝিকরগাছা উপজেলার অন্তর্গত পলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম বানীকান্ত চন্দ্র। তিনি শৈশবে গ্রামের স্কুলে যৎসামান্য লেখাপড়া শেখেন তারপর যশোর শহরের কাপুড়িয়া পট্টিতে তিনি একটি জুয়েলারির দোকান করেন এবং শহরে বসবাস করতে থাকেন। তিনি একজন অভিনেতা ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত নাটক ‘‘কার দোষে’’ এবং ‘পারগেটিভ’ তাঁর লিখিত একটি নাটকের পান্ডুলিপি অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। ভূপতি মোহন চন্দ্র ১৩৭৮ সালের ১৪ই ফাল্গুন পরলোক গমন করেন।

 

আহমদ আলী সাহিত্যরত্নঃজন্ম ১৯১০ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার গুলবাগপুর গ্রামে। সাহিত্যের উপর বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে সাহিত্যরত্ন উপাধি দেওয়া হয়। তাঁর গ্রন্থ পাক যশোরের কাব্য ভূগোল। জামে মসজিদ লেন, যশোর থেকে ১৯৫৮ সালে আহমদ আলী সাহিত্য রত্নের সম্পাদনায় ‘‘মাসিক নকীব’’ প্রকাশ পায়।

 

ওয়াহেদ আলী আনসারীঃজন্ম ১৯০৯ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে। পৈতৃক নিবাস উক্ত থানার গরীবপুর গ্রাম। স্থায়ীভাবে বাস শুরু করেন যশোরের বারান্দি পাড়ায়।

কর্মজীবনে মুদ্রণ ব্যবসায়ী। বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি যশোর শহরে হোমিও প্যাথী দাতব্য হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা। জনহিতকর কাজের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য সাধনায় মশগুল থাকতেন।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ ঃ নাস্তা, শেখ ফরিদ, গল্পে পাকিস্থান, কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ, ভিক্ষা বৃত্তি, সুখী পরিবার, পাষাণ কলি ইত্যাদি। এছাড়াও কাব্যে কোরান (১ম মঞ্জিল) দীউয়ান-ই-হাফিজ ইত্যাদির অনুবাদ করেন।

অপ্রকাশিত রচনাঃ কায়েদী বালা খানা, সাংবাদিকতার আদিকথা, কাব্যে কোরান (২য় ও ৩য় মঞ্জিল) ইত্যাদি।

 

সৈয়দ শামসুর রহমানঃজন্ম ১৯১২ সালে ঝিকরগাছা থানার পুরন্দপুর গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন নামকরা এডভোকেট। কর্ম জীবন থেকে অবসর নিয়ে যশোর শহরে বসবাস করেন। কর্মজীবনের সাথে তিনি সাহিত্য সাধনা করেন।

তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থঃ আফ্রিকার আমন্ত্রনে, অপ্রকাশিত গ্রন্থঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ, বিশ্ব বিখ্যাত রহস্য ইত্যাদি।

 

 

মনুয়ারা মহসিনঃবাংলা ১৩৪৫ সালের ১৭ই আশ্বিন ঝিকরগাছায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুহাম্মদ লুৎফর রহমান। মনুয়ারা মহসিন খুলনা করোনেশান গার্লস হাই স্কুল থেকে ১৯৫৪ সালে ম্যাট্টিক পাশ করেন। তিনি কিছুকাল ঝিকরগাছা বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। তাঁর স্বামী এ.এইচ মহসিন আলী যশোর এম এম কলেজের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমানে যশোর শহরস্থ লালদীঘির পূর্ব পাড়ে নিজস্ব বাসভবনে স্থায়ীভাবে তাঁরা বসবাস করেন। ছাত্র জীবন থেকে মনুয়ারা মহসিনের সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মে এবং স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর সাহিত্য সাধনার হাতে খড়ি হয়। তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গান, গল্প, ফিচার প্রভৃতি লিখে থাকেন। সম্প্রতি তাঁর ‘‘বকুল মালা’ নামক ছোটদের জন্য লিখিত ১৭ পৃষ্ঠার একখানি নাটক প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অপ্রকাশিত উপন্যাসঃ রক্ত পলাশ মন, সুখ এক ঝাঁক উড়ন্ত পাখি, ইত্যাদি। পিতা এয়াহিয়া চৌধুরি বিশিষ্ট সমাজ সেবক ছিলেন। যশোর মমিন গার্লস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি যশোর কালেক্টরীতে চাকরি সূত্রে ঘোপে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

 

মাসুমা পিয়া: ঝিকরগাছার রত্ন কবি সৈয়দ লাল মোহাম্মদ এর ছোট মেয়ে। জন্ম ১৯৭৩ পুরাতন কসবা যশোর। মাসুমা পিয়া মূলত একজন স্থিরচিত্র শিল্পী। ২০০২ সালের ৫ জুন থেকে ১১ জুন তার প্রথম একক স্থির চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং সুনাম অর্জন করেন। যার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘‘ পরিবেশ দিবসের প্রতি নিবেদিত’’ প্রদর্শনী ভুক্ত ছবিগুলির মধ্যে ছিল - জীবন প্রতিদিন, ঐক্যতান, সবুজ ফোঁটা, সংগ্রাম, নিস্তব্দতা-১, নিস্তব্দতা-২, স্মৃতি, অপেক্ষা, ছোট্ট জীবন-১, ছোট্ট জীবন-২, প্রভৃতি। ২০০৩ সালের ৬ জুন থেকে ৮ জুন ব্রিটিশ কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ‘‘নারী দিবস’’ উপলক্ষে স্থিরচিত্র প্রদর্শনী হয় এবং প্রশংসিত হয়। মাসুমা পিয়া কর্মজীবনে একজন মিডিয়া কনসালট্যান্ট। নিজস্ব মিডিয়া হাউজ ‘মাতৃ’ র স্বত্ত্বাধিকারী।

 

ইসরাফিল হোসেন: একজন কবি, মুক্ত চিন্তার মানুষ, মানুষ গড়ার কারিগর। পিতা মৃত তফেল উদ্দিন গাজী। মাতা মৃতা লালুমতি বেগম জন্ম ৩ ফেব্রম্নয়ারী ১৯৫২ নওয়াপাড়া, ঝিকরগাছা যশোর। শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল পাশ। মাদ্রাসা লাইনে লেখাপড়া শিখলেও তিনি প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার ধারক। মুক্ত চিন্তার মানুষ। শিক্ষাকতা করেন ঝিকরগাছা বিএম হাই স্কুলে। বই পড়া তার শখ। বাড়িতে সমৃদ্ধ সংগ্রহের ব্যক্তিগত পাঠাগার আছে। লিখছেন নিরন্তর। বাচনভঙ্গির দক্ষতায় মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারেন সহজেই। ইসরামী গবেষণামূলক একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ ‘‘সমস্যার গভীরে’’ ১৯৯২ সালে দৈনিক কল্যাণ এ ১৯ পর্বে প্রকাশিত হয়। ‘যশোরের কাগজ’ প্রকাশনার পÿ থেকে ১৯৯৬ সালে ‘পোশাকে ইসলাম নেই’, গবেষণা ধর্মী গ্রন্থটি প্রকাশ পায়। অন্বেষা পাঠাগার লাউজানী এর পক্ষ থেকে ‘অনিকেত ভাবনা’ কাব্যগন্থটি প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে। অনিকেত ভাবনা (২য় খন্ড) সুর অনির্বাণ নামে দু’টি কাব্য গ্রন্থের পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

মোকছেদ আলী হাওলাদার: একজন যুক্তিবাদী ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। পিতা মৃত ফটিক হাওলাদার মাতা মৃতা ছবুরা বেগম। জন্ম ১ মার্চ ১৯৩৯ মৃত্যু ৩১ জানুয়ারী ২০০৯। জন্ম স্থান নলছিটি, বরিশাল। ফটিক হাওলাদার ব্যবসায়িক সূত্রে ঝিকরগাছায় আসেন এবং স্থায়ী নিবাস গাড়েন। মোকছেদ আলী তার ডায়েরীতে অনেকগুলো কবিতা লিখেছেন। যে গুলো সুযোগের অভাবে গ্রন্থাকারে প্রকাশ হয়নি। তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এগুলো প্রকাশ করতে ভয় পান। এ যুক্তিগুলো মানুষ মেনে নেবে কিনা এটাই তাদের সংশয়। লেখাগুলো এখনো গচ্ছিত আছে, কাউকে দিতে অস্বীকার করেন। মোকছেদ আলী কর্মজীবনে ঝিকরগাছা বাজারে চাল ব্যবসায়ী ছিলেন।

 

 

মোঃ জালাল উদ্দিন:  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সৃজনশীল সংগঠক। পিতা মরহুম জোনাব আলী  মাতা মরহুমা মতিউন্নেছা, জন্ম: ৩০ নভেম্বর ১৯৪১ ছোট পোদাউলিয়া শংকরপুর ঝিকরগাছা, যশোর। শিক্ষাগত যোগ্যতা এম, এ (ইতিহাস) ১৯৬৬। ১৯৬২ সালে বাগআঁচড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবনের শুরু। ১৯৬৮ সালে লোহাগড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে ইতিহাসের প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ঝিকরগাছা শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রী কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাগআঁচড়া ডা. আফিলউদ্দিন ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন। ঝিকরগাছার নাড়ির টানে সম্প্রতি তিনি ‘‘শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস’’ একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। কয়েকটি ঐতিহাসিক গ্রন্থের পান্ডুলিপি প্রস্ত্ততিতে সময় কাটাচ্ছেন।

 

কমল কুমার ঘোষ: পিতা মৃত উপেন্দ্র নাথ ঘোষ মাতা: মৃত কিরণবালা ঘোষ। জন্ম : ১ অক্টোবর ১৯৫৩ মধুখালি, ঝিকরগাছা, যশোর। ছাত্র জীবন থেকে সাহিত্য ও সংগীতের হাতে খড়ি। ২৩/০৭/১৯৮৪ সালে খুলনা বেতার কেন্দ্রে পল্লীগীতির শিল্পী হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হন। তিনি সেন্ট লুইস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক হিসাবে সেবা দিয়ে আসছেন। তার কবিতা বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আসছে। তিনি একজন খ্যাতিমান মৃৎ শিল্পী।

 

 

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম:  তরুণ গবেষক , কলামিষ্ট, ও প্রবন্ধকার মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২ শে জানুয়ারী যশোর জেলাধীন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাত পুর গ্রামে এক সম্ভ্রন্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তোরাব আলী মুন্সী স্মরণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। মাতার নাম সখিনা খাতুন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। রফিকুল ইসলাম শিক্ষা জীবনের সকল স্তরে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। বাবার প্রতিষ্ঠিত স্মরণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার পর প্রথমে ঝিকরগাছা দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায় ও পরে গাজীর দরগাহ ফয়জাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ১৯৯০ সালে দাখিল (এস.এস.সি) পরীক্ষায় বোর্ডের বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে (খুলনা বিভাগে ৬ষ্ঠ) ও ১৯৯২ সালে ঐ একই প্রতিষ্ঠান থেকে আলিম (এইচ,এস,সি) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এর পর ১৯৯৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি বিভাগ থেকে্ উচ্চতর ২য় শ্রেণীতে অনার্স পাশ করেন। ঐ একই বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সালে এম.এ (থিসিস) ডি গ্রুপ থেকে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি বেনাপোল মহিলা সিনিয়র মাদ্রাসায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, যশোর সেন্টারে ডিস্টান্স এডুকেশন প্রোগ্রামে এ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে সরকারী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন। ‘‘ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুসলমান ও সূর্যসেন’’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখার মধ্য দিয়ে ছাত্র অবস্থায় তাঁর লেখার হাতে খড়ি। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন । তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একজন নিয়মিত গবেষক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন গবেষণা বিভাগ থেকে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের নাম ‘‘১৯৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’’ দ্বিতীয় গবেষনা গ্রন্থের নাম ‘‘গাজী কালু ও চম্পাবতী : তিনটি উপেক্ষিত চরিত্র’’ ফাউন্ডেশনে জমাকৃত এই পান্ডুলিপির প্রথম অধ্যায় ‘‘যশোরের প্রথম ইসলাম প্রচারক হয়রত বড় খান গাজী (রঃ) একটি তথ্যানুসন্ধান প্রচেষ্টা’’-ই.ফা.বা ত্রৈমাসিক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত। এছাড়া মাসিক অগ্রপথিক, দৈনিক নয়াদিগন্ত  (শেকড়ের সন্ধানে), সাপ্তাহিক সোনার বাংলা ঢাকা, দৈনিক লোকবার্তা,রাজশাহী দৈনিক কল্যাণ, যশোর দৈনিক লোকসমাজ, যশোর, মাসিক নির্ঝর , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় সাময়িকীতে তিনি নিয়মিত ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্য বিষয়ক লেখালেখি করে থাকেন। ইতিহাসের কালপঞ্জি (অপ্রকাশিত) , আমার স্মৃতিতে বাবা (অপ্রকাশিত) , স্কুল টেকট কম্বাই- জেনারেল নলেজ (প্রকাশিত), ইতিহাসের পাতায় ঝিকরগাছা (অপ্রকাশিত) পান্ডুলিপি রয়েছে। তিনি বর্তমান ‘‘আল কুরআনে ঐতিহাসিক জনপদ : একটি সমীক্ষা’’ এই বিষয়ের উপরে পি,এইচ,ডি-তে গবেষণারত আছেন।

 

মাসুমা মিম: জন্ম যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায়। ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই বাবা মাহফুজুর রহমান ছিলেন একজন চাকুরিজীবী। বাবার স্থায়ীত্বের কারণে ওখানেই শৈশব, কৈশর এবং লেখাপড়ার পরিসমাপ্তি। লেখালেখির অভ্যাস সেই ছোট্টবেলা থেকে। কিন্তু পত্রিকার মাধ্যমে সাহিত্যে আত্নপ্রকাশ ১৯৯০ এ। খুলনা থেকে প্রকাশিত জন্মভূমি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় প্রথম লেখা ছোট গল্প ‘‘জীবনের গল্প’’ এর পর লেখাপড়ার  ব্যস্ততার কারণে চুপচাপ থাকা । তার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘‘চন্দ্রমল্লিকা’’ এটি প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘‘ভালবাসার আগুনে পুড়ে’’ ১৯৯৫ এর শেষে প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি ঝুঁকে পড়েন টিভি নাটকের দিকে। নাট্যকার হিসাবে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। ১৯৯৬ এর ডিসেম্বরে বিটিভি প্রচার করে তার লেখা প্রথম নাটক ‘‘ভোর হয়ে এল’’। একুশের টিভিতে প্রচারিত হয় ধারাবাহিক নাটক ‘‘বিন্দু নয় বৃত্ত’’ আই চ্যানেলে প্রচারিত হয় ধারাবাহিক নাটক ‘‘অখন্ড আকাশ’’ ১৯৯৭ এর একুশের বই মেলায় একসাথে প্রকাশিত হয় তিনটি বই ‘‘অবলা’’ আবেগ ও রাত্রি। বাস্তবধর্মী উপন্যাস তিনটি জনপ্রিয়তা পেলেও লেখালেখি থেমে যায়। দুই ছেলের জন্ম এবং বেড়ে ওঠায় আবার লেখার জগতে ফিরে আসেন তিনি। ২০০৫ এর বইমেলায় প্রকাশিত হয় এইডসের উপরে বাস্তবধর্মী একটি উপন্যাস ‘‘অচেনা ছোঁয়া’’ পরপরই বের হয় কিন্ডার গার্টেন স্কুলের জন্য বই ‘‘ছোটদের শিক্ষামূলক গল্প ও ছড়া’’।

 

দুলাল চক্রবর্তী: জন্ম ১২/০৩/১৯৫৭ ইংরেজী সনে যশোর জেলার অন্তর্গত মনিরামপুর থানার মোহনপুর গ্রামের এক হৃদয়বান ব্যক্তির আশ্রয়ে। পিতা- শ্রী অনন্ত কুমার চক্রবর্তী জন্ম ১২/০৩/১৯০৭ ইংরেজী সনে বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত তালা থানার কলাপোতা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাক্ষণ পরিবারে। পিতার মৃত্যু : ২২/১২/২০০৮ ইংরেজী। মাতা- দুর্গা রাণী চক্রবর্তী জন্ম ০৮/০৪/১৯২৫ ইংরেজী সনে যশোর জেলার অন্তর্গত কেশবপুর থানার ভেরচী গ্রামে ব্রাক্ষণ পরিবারে। মৃত্যু- ২১/১১/১৯৮৮ ইং. বর্তমান ঠিকানা যশোর জেলার অন্তর্গত ঝিকরগাছা থানার অদূরে (পারবাজার শিব মন্দির) দেবত্র সম্পদে পিতার দীর্ঘদিনের মন্দির সেবায়েত ‘‘অথ্যার্ৎ ১৯৬২ ইং’’ কর্মের সুবাদে পরিবার সহ বসবাসরত। মধুচিন্তনে (মহাকবি মধুসূদন দত্ত) আকষ্ট হন ১৯৮৪ সনে ২৫শে জানুয়ারী কোনো এক পত্রিকায় মধুকবি জীবনি দর্শনে। এর পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৮৪ সনের ২৪ শে জানুয়ারী পর্যন্ত মধুকবির প্রতি আমার ছিল অবজ্ঞাভাব। মন্দির এলাকার রক্ষণশীল হিন্দুদের প্রচার আক্রোশের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, সাহিত্য চর্চার উদ্যোগ গ্রহণ করেন ১৯৯২ সনে। আর মধুকবির স্মৃতিচারণ উদ্যেশে তাঁরই ধারা অবলম্বনে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করার সূচনা সৃষ্টি করেন ২০০১ সনে। বর্তমান সনেট সংখ্যা ১২২টি । এবং অন্যান্য ধারার কবিতা ১৫টি। পেশায় তিন একজন পল্লী চিকিৎসক।

 

সাইফুদ্দিন সাইফুল: একজন কবি। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৭৭। পিতা- মৃত হারুন অর রশীদ, মাতা- খোদেজা খাতুন। কৃষ্ণনগর ঝিকরগাছা, যশোর। লেখালেখির হাতে খড়ি ১৯৯৪ সালে। লেখার বিষয় কবিতা, ছড়া, নিবন্ধ, কলাম, ফিচার ইত্যাদি। সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা কপোতাক্ষ, একতারা ও ছন্দপত্র। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অন্ধকার (২১ বইমেলা ২০০৬) সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এরই মধ্যে অনেকগুলো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

 

আব্দুস সোবহান: লক্ষিপুর, ঝিকরগাছা, যশোর। তিনি খ্যাতিমান গ্রন্থ সমালোচক। বহু বিখ্যাত লেখকের বই সমালোচনা করেছেন। সাংবাদিকতা করেছেন স্থানীয় সংবাদপত্রে। সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দৈনিক কল্যাণে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে খুবই অসহায় জীবন যাপন করছেন।

 

নাসির উদ্দীন আহম্মদঃ নাছির উদ্দীন আহম্মদ ১৯৩০ সালে পশ্চিম বাংলার ২৪ পরগুনা জেলার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত বাদুড়িয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ৪৭- এ দেশ বিভাগের পর তিনি যশোরে চলে আসেন এবং অভয় নগর থানার অন্তর্গত বাঘুটিয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। কবি নাসির উদ্দীন আহমদের স্ত্রীর নাম আশরাফুন্নেসা। কথিত আছে তাঁরা ধর্মীয় মন্ত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন না। পাশ্চত্যের মত দু্ই জনের সম্মতিতে তৎকালীন জেলা কমিশনারের কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন নিয়ে একত্রে বাস করতেন। স্ত্রী আশরাফুন্নেসা সরকারি চাকরির সুবাদে ঝিকরগাছার মোবারকপুর শিশু সদনেও চাকরি করে গেছেন। কবি নাসির উদ্দিন স্ত্রীর সাথে মোবারকপুর বাসা নিয়ে থাকতেন। বর্তমানে মোবারকপুর মিলপট্টি নতুন নাম মোবারকপুর কপোতাক্ষ পাড়া (পৌরসভা হওয়ার পর পাড়া ভিত্তিক নাম করনে যেহেতু বৃটিশের আমলের সেই গেঞ্জির মিল এখন আর নেই এবং এই পাড়াটি কপোতাক্ষ নদের তীরে তাই কপোতাক্ষ পাড়া নাম করণটি আমি (লেখক) উত্থাপন করি পৌর কমিশনার জনাব মশিয়ার রহমানের মাধ্যমে) যেখানে আমি বাড়ি করে আছি ঠিক এখানেই একটি টিনের বাড়িতে সস্ত্রীক থাকতেন। নাসির সাহেব খুব রসিক এবং মিশুক মানুষ ছিলেন। এখানে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কথা সাহিত্যিক হোসেন উদ্দিন হোসেন, চিত্র শিল্পী আশরাফ হোসেন (আশা) সহ আরও অনেকের নিয়ে নিয়মিত আড্ডা জমাতেন। সারাদিন ঘুরে বেড়াতেন। তারপর রাত্রে বসে লিখতেন। বড় বড় পত্রিকায় তিনি ফিচার, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন একটানে লিখে যেতেন তাতেই সুন্দর সুন্দর বিষয় উপস্থাপন করার ক্ষমতা ছিল। নাসির সাহেবের জায়গাতে আমি আ